মাতৃভাষা দিবসঃ অনুভূতি পাল্টাচ্ছে
বাংলা ভাষা নিয়ে আমার তেমন কোনো জ্ঞান নেই। তাই আজ ভাষা দিবসে আমার অজ্ঞানতা ছাড়া বলার কিছু নেই। হঠাৎ করে কোনো সাবজেক্টে পারছিলাম না বলে বাংলায় অনার্স ধরিয়ে দিয়েছিল কেউ। রবীন্দ্রনাথ-টবীন্দ্রনাথ বুঝতে পারিনি বলে এমএ করতে গিয়ে নাট্য সাহিত্য নিয়ে স্পেশাল করে অবশেষে গিরিশ ঘোষ বুঝলাম।
বাম-কংগ্রেস আমলে চার বছর ইংরেজি পড়তে পারেনি বলে ইংরাজি বলতে ভয় পাই। অথচ স্বাধীনতার পরে পরেই পাস করা আমার বাবা ভালোই ইংরেজি বলতে পারেন। সত্যিই কলেজ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে গিয়ে দেখলাম বাক্যের মধ্যে দুই একটা শব্দ ইংরেজি-হিন্দি পাঞ্চ না করলে বন্ধুরা ঠিক স্মার্ট বলছে না। তবুও সাহস নিয়ে দু'চারটে বাংলা কবিতা-গল্প লিখে কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় ঝোলা ব্যাগ ঘাড়ে করে কদিন ঘুরেছিলাম। ততদিনে আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও অনেকগুলো ভাষা আয়ত্ত করে এসএসসি- প্রাইমারি পরীক্ষা, চাকরি- মাস্টার হওয়া এসব বিষয়গুলোর জন্য সময় দশ বছর বাড়িয়ে নিলেন। আমিও একগাদা সার্টিফিকেট বগল ডাবায় করে কলকাতার রাস্তায় রাস্তায় খুব ঘুরলাম বেসরকারি চাকরির জন্য। ইন্টারভিউতে বসে থাকা আরাম চেয়ারের লোকটা খুব হিন্দি-ইংরেজি বলে আর সামনে দাঁড়িয়ে আমি তো-তো করতে থাকি।
বাংলা পড়ে সব খুইয়ে বুঝলাম প্রকৃত বাংলা চর্চা করে পায়ে টানা রিক্সাওয়ালারা কারণ টোটো ওয়ালারা সবাই শিক্ষিত এমএ বিএড পাস। চপ-চাওমিন যারা বিক্রি করে তারা প্রত্যেকে এখন এমবিএ- ইঞ্জিনিয়ারিং করে বসেছে রাস্তার দোকানে।
এদিকে আমাকে বাংলা পড়াতে গিয়ে বাবা ভুল করে চাষবাস শেখাতে ভুলে গেছিল। এখন ঘর বাচাতে ঘরছাড়া হয়ে ঘুরছি।
এমনিতে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বাঙ্গালীদের মাতৃভাষা বাংলা নিয়ে এত গর্ব করার কিছু নেই! তাদের ছেলে পুলে কেউই বাংলা জানে না কারণ তারা প্রত্যেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে। কলকাতা বইমেলায় এখন সবাই চিকেন চাপ,মোমো- বার্গার এসবই খায় কেউই পিয়াজি-মুড়ি খায় না।
এই যে আমেরিকান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স চ্যাট-জিপিটি আর চাইনিজ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দীপশিক বাংলা বুঝতে পারছে এবং সর্বোপরি আমিও ফেসবুকে বাংলা লিখছি তার একমাত্র কারণটা পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ ছিল তাই ।
এমনিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেই দিয়েছেন ভারতবর্ষে থাকতে গেলে সংস্কৃত ও হিন্দি জানতে হবে এটা শুনে অনেকেই বুঝলেন আরবি ভাষা এবার খুব জব্দ হবে এবং আনন্দিত হলেন। এ রাজা রাজা যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।
আবার আমার কথায় আসি এই যে বাইরের রাজ্যে কাজ করতে এসে মাতৃভাষা দিবসে একটাও বাংলা বলতে পারলাম না তাই ফেসবুকে এসব ভুলভাল লিখলাম তার জন্য আমায় আপনারা গালাগালি দিতেই পারেন অবশ্যই বাংলা ভাষায়! তাতে বিন্দুমাত্র কিছু মনে করব না।
আমার মাতৃভাষা দিবসের বোধ দিনে দিনে বদলাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই।


0 Comments