ফটোগ্রাফার তুহিন!!


জলের সন্ধানে, সুন্দরবন 

             আমার ফটোগ্রাফি করার কোনও অবস্থাই হওয়ার কথা নয়। আমি ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকতাম। যদিও সেই সখকে বাস্তবায়িত করার কোনও উদ্যোগ কেউ নেয় নি এমনকি আমিও না। তবে পড়াশুনার পাশাপাশি হাত খরচের জন্য  কমার্শিয়াল আর্টের কিছু কাজ করতাম। সেই সুবাদে ছবি তোলারও একটা কনসেপ্ট তৈরি হয়েছিল বলে মনে হয়। আমার নিম্ন মধ্যবিত্ত জীবনে দামি ক্যামেরা কেনার কোনও সুযোগ ছিল না। তাই মোবাইল ফোন দিয়ে শুরু করি ছবি তোলা। সেটা ফটোগ্রাফি কখনই নয়। 
              তবে ছবি তোলার ইচ্ছা ছিল তাই তুলতাম কোন ক্যামেরায় তুলতাম সেটা বড়কথা নয়। রিলের ক্যামেরার সময়ে কেবি-১২ কোডাক ক্যামেরায় যারা ছবি তুলেছেন তারা জানেন বিরাট কায়দা করে ৩০-৩২টা ছবি তোলার পরে ওয়াশ করে দেখা যায় যেমন চেয়েছিলাম তেমন তো হয়নি উল্টে আবার কোথাও মানুষের চোখ জ্বলে গেছে তো কোথাও আবার অন্ধকার।সে যাই হোক মানুষের ছবি তোলাই সেখানে লক্ষ্য। অযথা গাছ,ফুল,পাখির ছবি তুলে রিল নষ্ট করার মত টাকা বা ইচ্ছা কারও নেই।
                তারপর এল মোবাইল ফোন তাতে আবার ক্যামেরা। এ বিজ্ঞানের এক অভিনব আবিষ্কার। আমি একটি চায়না মোবাইল ফোন বাড়ির সবাইকে লুকিয়ে কিনে ফেললাম ,আমি আগেও মোবাইল ফোন বাড়িতে না জানিয়ে কিনে মার খেয়েছিলাম তবে এ গল্প শুধু ক্যামেরার,তাই বাকি কথা থাক। কিনলাম চাঁদনি মার্কেট থেকে মহানন্দে বাড়ি ফিরে তাতে সিম কার্ড ভরে দেখলাম গান শোনা, ছবি তলা,রেকরডিং সবই হচ্ছে কিন্তু কথা বলা যাচ্ছে না। যাই হোক ফিরে দোকানে গেলাম কাগজ দেখালেও ছোটদের হাতে ফোন দেখে ওরা বুঝেও বুঝলেন না। রীতিমত ঠকে বাড়ি ফিরলাম। মনটা খারাপ শুধু এটুকুই আনন্দ যে মোবাইলটাতে ছবি তো উঠবে!!
 
         এই মোবাইল ফোন নিয়ে আমি পশ্চিম মেদিনীপুরের বিখ্যাত জায়গা গনগনি (পশ্চিমবঙ্গের গ্র্যান্ডক্যানিয়ন ) বেড়াতে গিয়েছি। অনেক ছবি নিশ্চিত তুলেছিলাম কিন্তু মেমরি কার্ডের বিশ্বাসঘাতকতায় আজ সবই হারিয়েছি। কৈশোরের স্মৃতি সাক্ষী ছিল আমার এই ফোন। আমি একে প্রাণ দেওয়ার জন্য আরও একবার শেষ চেষ্টা করেছিলাম। সেটা ছিল খিদিরপুর। জায়গাটা কোলকাতা বাসীর কাছে খুবই পরিচিত। টেকনিক্যাল সমস্ত জিনিস এর জন্য এর ফ্যান্সি মার্কেট বিখ্যাত ছিল। সেখানে গিয়ে বহু কষ্টে একজায়গায় করা আমার ৩০০ টাকা দিয়ে এক মিস্ত্রীর কাছে করালাম আমার মোবাইলের শল্য চিকিৎসা। উনি ওনার টেবিলের নিচে পড়ে থাকা একটা পরিত্যাক্ত মোবাইল ফোনের বোর্ডের একটি পার্টসের সাহায্যে অতি দ্রুত কাজ শেষ করে বললেন অপারেশন সাকসেসফুল। আমিও দেখলাম আমার চায়না মোবাইলে ফুল টাওয়ার। হিন্দি জানি না তবুও এত অল্প সময়ে কাজ শেষ হওয়ায় এবং সেই অর্থে কোনও পার্টস না লাগায় মিস্ত্রিকে অনুরোধ করি ৫০ টাকা কম নেওয়ার জন্য। তখন তিনি আমাকে যে কথা বললেন তা আমি জীবনেও ভুলব না।