ন্মভিটা সুন্দরবন ছেড়ে বাবা মায়ের সাথে ৪ বছর বয়সে সোনারপুরে আসতে হয় আমাকে। গ্রামে বুলগা স্কুলের পাঠ তখন শুরু হয়েছিল সবে। সেই কারনে বোধের বিকাশ তখনও ঘটে নি।। তবুও স্মৃতিতে আজও যেন উঁকি দেয় আমাদের সেই বিরাট ভিটেবাড়ী, সান বাঁধানো পুকুর, আম, জাম, কাঁঠালে ভরা বাগান, মাঠের পর মাঠ সবুজ চাষের ক্ষেত। আজও যখন গ্রামের পথে হাঁটি সেই স্মৃতির সঙ্গে কোনও মিল খুঁজে পাই না।

যাই হোক আমার পরিবার বলতে বিশাল ব্যপার ছিল এককালে। ঠাকুরদা কালিপদ মণ্ডলের দুই বিবাহ। বড় ঠাকুমার ১ ছেলে ও ----- মেয়ে। আমার ঠাকুমা ছোটজন। তার ছেলে তিনজন ও ------- মেয়ে।
প্রত্যেকের সংসার নিয়ে সে এক বিশাল পরিবার। বাড়িতে সারা বছর মাহিনার লোক। ঠাকুরদা শুনেছি আমাদের গ্রামের  চাষিদের মধ্যে মাতব্বর লোক ছিলেন। মায়ের মুখে শুনেছি ঠাকুরদা পরিশ্রম যেমন করতেন তেমনি খেতে ও খাওয়াতেও পছন্দ করতেন। তরকারিতে ঝালের আধিক্য না থাকলে তার পেট ভরত না। আমার সঙ্গে ঠাকুরদার আলাপ করার সুযোগ হয়নি বটে তবে আমাকে দেখেই উনি ধরাধাম ত্যাগ করেছেন।

ঠাকুরদার সব ছেলে মেয়ের কথা মানে আমার কাকা, পিসিদের কথা আলোচনা করবো ধীরে ধীরে -----
ক্রমশ আপডেট হতে থাকবে লেখা--------

বাবা !   ঠাকুরদার মাটির পথে না হেঁটে কোলকাতায় আসেন শিক্ষার জন্য। শুরু করেন বি-কম নিয়ে পড়াশুনা করার । নকশাল আন্দোলন জোরদার শুরু হলে গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হন। গ্রামে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষিত বন্ধু মিলে স্কুল তৈরি করেন। বাবা সেখানে কর্মরত থাকা কালে স্কুলটি ২ ক্লাস
সরকারি অনুমতি পায়। তবে শুনেছি পার্টি- পলিটিক্সের জন্য পরে বাবার আর চাকরিটা হয় নি। শিক্ষার কারনে গ্রামে নানা কুসংস্কার-কুপ্রথার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান তাই গ্রামের লোকেদের কাছে বাবা হয়ে ওঠেন চক্ষুশূল। অগত্যা গ্রামের মায়া ত্যাগ করে শহরের অজানা পথে হঠাত পাড়ি দেন নিজের পরিবার সম্বল করে। সোনারপুরে এসে উপার্জনের ক্ষেত্রে কোনও উপায় বার করতে পারেন নি। এলআইসি-র  এজেন্সি করে সংসার চালানোর চেষ্টা করলেও সফলতা পান নি। গ্রামের ভিটে মাটি সব বিক্রি করে শহরে এসে দু কাঠা জমি কিনে কোনও রকমে ক্ষুণ্ণবৃত্তি চালিয়ে গিয়েছেন। 
তবে বাবার পরিচিতি এভাবে সম্ভব নয়, তিনি ব্রতচারী আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত।
গোটা সুন্দরবনের এহেন গ্রাম নেই যেখানে তিনি ব্রতচারীর কারনে যাননি। প্রত্যান্ত গ্রামের বিদ্যালয়, ক্লাব, সমাজসেবী প্রতিষ্ঠানে ব্রতচারী প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুবাদে গিয়েছেন। বহু ব্রতচারী ছাত্র আজ জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত । তৈরি করেছেন বহু ব্রতচারী প্রশিক্ষক। একজন পাগল ব্রতচারী হিসাবে তিনি বহুল পরিচিত। 








চির বন্ধনের সেই আঁচল   মা !

যখন বিয়ে করে আমাদের বাড়িতে আসেন তখন তিনি কৈশোর অতিক্রম করতে পারেননি। পুতুল খেলার ঘর ভেঙ্গে বিয়ের পিড়িতে বসলেও তা যে এতটা শক্ত মন নিয়ে তৈরি তা বুঝতে আমার পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হবে একথা বলা যায়। পেপারে টিভিতে সর্বদা দেখি ৫ বছর প্রেম করে বিবাহ করে ২ বছর সংসার করে আবার ডিভোর্স! তখন ভাবি আমার 'মা' সে তো এত বুঝে শুনে বিয়ে করেনি তাহলে কিসের এই নিবিড় সাংসারিক বন্ধন ? সংসারে শুধুই দিয়ে গেলে পেলে না কিছুই!
    গ্রামে বিশাল পরিবারের হেঁশেল সামলেছেন যেমন দক্ষ হাতে আবার গরু , ছাগল, হাঁস, মুরগির সংখ্যাও কম নয়। শুনেছি মা যখন গ্রামের পথ ছেড়ে শহরের অদৃষ্টের পথে পা বাড়ান তখন গ্রামের মানুষ জন শুধু নয় মায়ের গরুগুলোর চোখেও দেখা গিয়েছিল জল। শহরে বাবার উপার্জনের অবস্থা খারাপ দেখে সংসার বাঁচাতে মা কখনও ছুটে গেছেন সেলাই এর কাজ করতে আবার কখনও ব্যাগ কোম্পানিতে । সারা জীবন তার অশক্ত শরীরটাকে নিয়ে বাবার অর্ধাঙ্গিনী নয় তার অনেক অধিক হয়ে উঠেছেন।
ক্রমশ--------- 







বৌ! অন্তহীন ভালবাসা।                                                                                                                           

কেয়া। কলেজ প্রেম। আমি এসব বিষয় লুকোই না। মাঝখানে গঙ্গার উপর দিয়ে কত না জল বয়ে গিয়েছে তবুও এখানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিয়ের আগে দশ বছর প্রেম করে আজও সে প্রেম অব্যাহত রাখতে পেরেছি ।পরম শক্তিমানের কাছে আকুতি যেন সারাজীবন হাজার দুঃখ কষ্টই আসুক না কেন আমরা যেন এমনই থাকতে পারি।
আমাকে ভাল বোঝে। অনেক দিনকার সম্পর্ক বলে নয় ওর  এই ক্ষমতা আছে হয়ত।  আর সেই কারণেই আমার অক্ষমতা গুলো নিয়ে কোনও দিন প্রশ্ন তোলে না। সমস্ত কিছু লিখতে গেলে আপনারা  আমার  এ গল্প পড়বেন না। তাই দীর্ঘায়িত না করে বলি কেয়ার বাপের বাড়ী হেমনগর । হেমনগর সুন্দরবনের উত্তর ২৪ পরগনার অংশ। আমার জন্মস্থান যদিও দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে। আর বেড়ে ওঠা সোনারপুরে। আর এই সোনারপুরেই কলেজে পড়াকালীন দুজনের দুজনা হয়ে ওঠা। প্রেমিকা থেকে বৌ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে তাকেও কম পরীক্ষা দিতে হয় নি। আজও দিতে হচ্ছে । আর আজীবন এই ধারা চলতে থাকবে। কামনা করুন ও যেন পরীক্ষায় সফল হয়। বিপিএড করে স্কুলে চাকরির চেষ্টা ছিল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর , নিজের বাসনা। কিন্তু সরকারের উদাসীনতায় সে আশা আপাতত স্থগিত রেখে আমার ঘরনি হতে মনোনিবেশ করেছে বলা যায়।



 দুই দিদিঃ